ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার মোট পাঁচটি ইউনিয়ন যুক্ত করে 'বরিশল' নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী মোড় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়ক একযোগে অবরুদ্ধ করেন। বিক্ষোভ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দিতে থাকেন।

অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে নতুন উপজেলা নিরীক্ষণ সম্পর্কিত দাপ্তরিক চিঠি পাওয়ার তথ্যটি গোপন রাখার অভিযোগ এনে তারা জেলা প্রশাসকের ওপর নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাইদের সঙ্গে তাঁর কক্ষে বৈঠক করেন। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম রোমা এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদলে চার ইউনিয়নের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলটি জেলা প্রশাসকের কাছে নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা বাতিল চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দেয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে জনগণের তীব্র মতামত ও সার্বিক বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করলে আন্দোলনকারীরা ঘণ্টাখানেক পর সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে অবস্থানস্থল ত্যাগ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়ন, বিজয়নগর উপজেলার সিংঙ্গারবিল ইউনিয়ন এবং আখাউড়া উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন 'বরিশল' উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উক্ত রূপরেখা অনুসারে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্প্রতি নতুন উপজেলার প্রশাসনিক নিরীক্ষণের জন্য চিঠিও পাঠানো হয়, যা জেলা প্রশাসন গোপন রেখেছিল।

সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, সদর কিংবা বিজয়নগর উপজেলাকে বিভক্ত করে কোনো নতুন প্রশাসনিক ইউনিট তৈরির পায়তারা বরদাশত করা হবে না। সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে ভবিষ্যতে জেলা জুড়ে রেলপথ ও সড়কপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বাসিন্দারা বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখে সদর উপজেলার সঙ্গেই বহাল থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাইদ নিশ্চিত করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট চার ইউনিয়নের অধিবাসীরা নতুন উপজেলা রূপান্তরের বিরোধিতা করে তাঁদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। স্মারকলিপির আবেদন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেগ-অনভূতির তথ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে তিনি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার ৩টি, বিজয়নগর উপজেলার ১টি ও আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়ন নিয়ে “বরিশল” নামে নতুন উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

নতুন উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বিক্ষুব্দ জনতা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।