বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গুলশান থানায় করা এই মামলার তদন্ত শেষে গত ১৫ অক্টোবর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফিরোজ আহম্মেদ মুন্সী এই অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ, জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই, যখন শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের বাসায় আছেন এমন তথ্য পেয়ে আসামিরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। তাঁকে না পেয়ে পুলিশ চলে গেলেও, আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু পুনরায় বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই সময় ভুক্তভোগী ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন এবং বাকি ৪০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ মুন্সী জানান, পরবর্তী সময়ে ২৬ জুলাই বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে এসে আসামিরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। অভিযানের সময় আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং পরে জানে আলম অপুকে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগপত্রে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপুর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় এবং বাকিদের বিরুদ্ধে ১৪৩, ৪৪৮ ও ৩৮৫ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। রাজ্জাক নিজেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, টাকার লোভ সংবরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে, জানে আলম অপু জানান, আদায় করা টাকা তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিলেন এবং সেই টাকায় মোটরসাইকেল কেনাসহ ব্যক্তিগত ধারদেনা পরিশোধ করেছেন। বর্তমানে মামলার ছয় আসামিই জামিনে রয়েছেন এবং আগামী ১০ নভেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, বেশ কিছু মুঠোফোন ও একটি ইয়ামাহা এফজেড-এক্স মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।