সরকারের ক্রমাগত ব্যর্থতা ও দেশজুড়ে তৈরি হওয়া নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির প্রতিবাদে সাধারণ জনগণকে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, আট মাস পার হয়ে গেলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতে পারেনি। এই সরকারকে সঠিক পথে আনতে এবং জবাবদিহিতার আওতায় দাঁড় করাতে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভার আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। মূলত দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এনসিপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকারসহ অপরাপর নেতারা।

শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিটি পুরোপুরি যৌক্তিক। সরকারের উচিত ছিল শুরুতেই তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান খোঁজা, তবে সঠিক সময়ে উদ্যোগ নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এনসিপি সব সময় শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবির পাশে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন বিএনপি তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না।

দেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্টরা দেশে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে সেই দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। এখন বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড দমন করতে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হলেও দেশের ও জাতির আসল শত্রুরা যে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সরকারের কোন দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। তিনি বিএনপিকেও নিশানা করে অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে আসা নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানান, জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং আন্দোলনের কৌশল তাদের জানা আছে।

জ্বালানি খাতের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এই ঊর্ধ্বগতি না থামলে খোলা বাজারে গ্যাসের দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকতে পারে। এছাড়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে আগামী ডিসেম্বরে এনসিপি রাজপথে নামবে বলে ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সারা দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে। ডিসেম্বরে দেশের পরিস্থিতি কোনো কারণে অবনতির দিকে গেলে তার সমস্ত দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। জনগণের অধিকার আদায় ও দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় এনসিপি আগামী ডিসেম্বরজুড়ে রাজপথে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।

গ্যাসের দাম আরও বাড়লে তা বাজারে ৩ হাজার ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।