ইসরায়েলের কট্টর ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দ্রুত ক্ষমতা থেকে সরাতে সম্মত হয়েছে দেশটির প্রধান চারটি বিরোধী দল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এক যৌথ বৈঠকে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা জোট গঠনের আলোচনা অবিলম্বে শুরু করতে এবং আগামী সপ্তাহে নতুন পার্লামেন্ট বা নেসেটের শপথ গ্রহণের আগেই নিজস্ব সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ে একমত প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারকে হটিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের অঙ্গীকার জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াহাদ চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু প্রধান অ্যাভিগদার লিবারম্যান। তাঁরা ইয়াশার চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চার নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ঘোষিত মূল চার নীতির মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েলকে একটি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণার মূল্যবোধ রক্ষা করা, দেশের সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে গাজা উপত্যকায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের পাশাপাশি শাসনের অবসান ঘটানো। নেতারা জানান, নেসেটে থাকা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে ৭ অক্টোবরের সরকারকে উৎখাত করাই তাঁদের লক্ষ্য।
তবে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের চূড়ান্ত পথ এখনো কিছুটা অনিশ্চিত। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। বিপরীতে বিরোধী চার ইহুদি দল পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পেতে হলে তাদের ১৯টি আসন পাওয়া দুটি আরব দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। অথচ বিরোধী ইহুদি দলগুলোর কেউ কেউ আরব দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু থেকেই নারাজ। ফলে আরবদের বাদ দিয়ে তারা কীভাবে সরকার গড়ে তুলবে, তা স্পষ্ট নয়।
এমন জটিল সমীকরণের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম ম্যান্ডেট যাতে গাদি আইজেনকট পান, সে বিষয়ে বিরোধী নেতারা পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে দলগুলোর আলোচনা প্রতিনিধিরা দ্রুত জোটের নীতিগত রূপরেখা ও চূড়ান্ত চুক্তি প্রণয়নের কাজ শুরু করবেন বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।