যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গণনা চলাকালেই প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এগিয়ে রয়েছে। সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। তবে উচ্চকক্ষ সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে একাধিক আসন ছিনিয়ে নেওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। সিনেটেও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অগ্রগতি দেখা গেলেও সেখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর পাশাপাশি দেশের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদে মোট ২১৮টি আসন পেলে যেকোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটরা পেতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিএস নিউজ। অপরদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে টেক্সাস, ওহাইও, মিশিগান, মেইন, আইওয়া ও আলাস্কার মতো মূল অঙ্গরাজ্যগুলোর ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবার নজর কাড়ছে। এর মধ্যে টেক্সাসের সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের সঙ্গে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এ ছাড়া মেইন অঙ্গরাজ্যে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার গতি একরকম না থাকায় সব আসনের চূড়ান্ত ফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। বিশেষ করে আগাম ভোট ও ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। যেসব আসনে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য, সেখানে বিজয়ী ঘোষণা করার আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে কংগ্রেসে কোন দল আধিপত্য বিস্তার করবে, তা চূড়ান্তভাবে জানতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ ছিল রিপাবলিকানদের দখলে। এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে নেওয়ার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে।