যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে চলে যাচ্ছে। সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ২১৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে, যেখানে রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পেতে পারে। এর মাধ্যমে চার বছর পর আবারও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ২১৮টি আসনের প্রয়োজন হয়, যে লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব এবং সরকারি কার্যক্রমের ওপর নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা তদন্তের উদ্যোগও নিতে পারবে।

তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দলটি নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয়ী হয়েছেন। আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর চূড়ান্ত ফলের ওপর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে।

নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে তারা ভোট দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশই মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ৪৩৫ আসনবিশিষ্ট প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৯টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ২১৪টি আসন ছিল, দুটি আসন ছিল শূন্য। ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্রদের আসন ছিল ৪৭টি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফল শুধু বর্তমান মেয়াদের জন্যই নয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরেও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।