‎রোগীর অপেক্ষায় তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুই মাসেও খোলেনি ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক!
‎
‎পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন
‎
‎গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিক এখন নিজেই যেন অসুস্থ। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় ক্লিনিকে এসে দরজায় তালা দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষ।
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোঃ সারোয়ার আলমের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। তাঁদের দাবি, ঠাকুরগাঁও থেকে বদলি হয়ে আসার পর থেকেই তিনি নিয়মিত ক্লিনিকে উপস্থিত থাকতেন না। কখনো বেলা ১১টার পর ক্লিনিকে এলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি অবস্থান করতেন না। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে হয়েছে।
‎মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের মূল ফটকে ঝুলছে তালা। সেবাকেন্দ্রের আশপাশে নেই কোনো কর্মচাঞ্চল্য। অথচ সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল এলাকার অসংখ্য মানুষ।
‎স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করতেও সমস্যায় পড়ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী। বাধ্য হয়ে ক্লিনিকের সামনের সড়কে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে তাঁকে। এতে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
‎এ বিষয়ে ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি মোঃ সারোয়ার আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি অফিসে রয়েছেন এবং পঞ্চগড় জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন।
‎অন্যদিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজা রিনা জানান, সিএইচসিপির অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে তাঁর হাজিরা খাতা নিজ দপ্তরে রেখেছেন। সেখান থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে তাঁকে ক্লিনিকে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজে একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেও তাঁকে ক্লিনিকে উপস্থিত পাননি। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে একাধিকবার চিঠি ও শোকজ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তেরও আবেদন করা হয়েছে।
‎জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপির বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
‎এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপির বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিক যদি দিনের পর দিন তালাবদ্ধ থাকে, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের সুফল ভোগ করবে কারা? বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল এই ক্লিনিক বন্ধ থাকায় তাঁদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
‎এলাকাবাসী দ্রুত ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি নিয়মিত চালু করা, সিএইচসিপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।