পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক সক্রিয় সদস্য, অর্থঋণ আদালতের তিন আসামি এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে মাতলামির অভিযোগে আরও একজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদের নেতৃত্বে দিনব্যাপী এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর রাতে এসআই জাহিদুর রহমান বাদল মাহমুদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে মো. নূরনবী মন্ডল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি উপজেলার বিলচান্দক গ্রামের মো. শাহাদত মন্ডলের ছেলে। ফরিদপুর থানার গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ৪ নম্বর মামলায় তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পুংগলী ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য।

অন্যদিকে, অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৪(১) ধারায় জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামিকে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসআই মো. ওয়াজেদ আলী, এএসআই নির্মল মুর্মু ও এএসআই মো. আখলাকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ এই অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—বাদাল গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী প্রামাণিকের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম, ধানুয়াঘাটা গ্রামের মৃত হারান প্রামাণিকের ছেলে মো. আবু তালেব এবং খেতাবাঘা গ্রামের আফসার প্রামাণিকের ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন। পুলিশ জানায়, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক সিআর অর্থজারি মামলা রয়েছে।

এছাড়া একই দিনে মাতলামির অভিযোগে সুশান্ত কুমার দে (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে মাতলামি করার অপরাধে তাঁকে আটক করা হয়। সুশান্ত কুমার দে খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার কুলিবাগান এলাকার শ্রী শিবু পদ দের ছেলে। তিনি বর্তমানে পাবনার বেড়া থানার সিএনবি এলাকায় বাবু নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

অভিযান শেষে ফরিদপুর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে কড়া পুলিশি প্রহরায় তাঁদের বিজ্ঞ আদালত, পাবনায় সোপর্দ করা হয়।