ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই দিনে পল্লবীতে কয়েকটি পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর থানা এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। ওই এলাকায় মোট আটটি পোশাক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি চালু ছিল। একটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখলেও উপকমিশনারের হস্তক্ষেপে আলোচনার পর বুধবার সকাল থেকে সেখানে কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এছাড়া গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় বুধবারও মিরপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বুধবার সকালে মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের গলিতে কয়েকটি কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হতে দেখা যায়, যাদের পুলিশ সরিয়ে দেয়। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও সেখানে শ্রমিকদের দেখা যায়নি। পাশাপাশি পল্লবী থানার আওতাধীন এলাকাতেও শ্রমিকরা বিক্ষোভের জন্য অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
গত ১ নভেম্বর ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোম ও মঙ্গলবারও মিরপুরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
এদিকে, কেবল মিরপুর বা পল্লবী নয়, একই দাবিতে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন চলছে। এসব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের সময় গাজীপুরে আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক শেখ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সরকার গত ১ নভেম্বর পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বুধবার বেলা ১১টায় বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।