জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত সংবিধান দিবসের আলোচনা সভায় সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সমালোচনা করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য সব সংসদীয় কমিটিতে যোগ দিলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে না যাওয়ার যৌক্তিকতা কী? রাষ্ট্র কখনো কোনো পক্ষের ক্ষোভ বা গোস্সার ওপর ভিত্তি করে চলতে পারে না, বরং তা যুক্তির নিয়মে চলা উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, সংসদীয় ৩৪টি কমিটির মধ্যে বাকি সব কটিতেই বিরোধী দল নাম দিচ্ছে, বৈঠক করছে ও তাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। কেবল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের নাম না দেওয়াকে তিনি অযৌক্তিক আচরণ বলে অভিহিত করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণের ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য মূল সংবিধানপ্রণেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং স্বৈরশাসন ও কর্তৃত্ববাদ প্রতিরোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এতে পরিমার্জন আসবে। তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও ভিত্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে নব্বই, পঁচাত্তর কিংবা চব্বিশের মতো ঘটনা বার বার ঘটলেও একাত্তর একবারই এসেছে। বিএনপি মনে করে সবার আগে বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই এগোতে হবে। দেশ পরিচালনায় বাড়াবাড়ি পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে, তা দলগুলোর নিজেদেরই ভাবা প্রয়োজন।

একই আলোচনা সভায় সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধংদেহী পরিবেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, বিরোধী দল তাদের চাহিদামতো সংস্কার না হলে এক দফার আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কেবল সংসদ সদস্যের সংখ্যা বা সাংগঠনিক শক্তির জোরে পরিবর্তন আনার চিন্তা না করে সত্য ও সঠিকের বিজয় নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবিধানপ্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন, যদিও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।