দেশে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। প্রায় দেড় বছর ধরে মজুরি ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হারের মধ্যে যে ব্যবধান কমে আসছিল, সেপ্টেম্বরে তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ মানুষের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য নীতি বাস্তবায়নে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যদিও সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা নিম্নমুখী, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তা আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে পৌঁছালেও মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে দুই হারের ব্যবধান বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় দেড় বছর ধরে এই ব্যবধান কমছিল, যা ভোক্তার ওপর কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছিল, কিন্তু সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জ্বালানি উপকরণ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বৃদ্ধিই মূলত এই চাপের মূল কারণ। একই সময়ে সব বিভাগেই মজুরি বৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে, যদিও ঢাকা বিভাগে তুলনামূলকভাবে মজুরি বৃদ্ধির হার কিছুটা বেশি ছিল। তবে জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ঋণ বা ছাপানো টাকার পরিমাণ কমানো এবং উৎপাদন খাতে কম সুদে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ। এছাড়া ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য বিনিয়োগে সমন্বিত তহবিল গঠন এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, আগামী বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম কমবে এবং উৎপাদন খাতে ঋণের জোগান বাড়লে তা মজুরি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।