প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার আবারো খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বেশ আশাবাদী।

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িতব্য এই প্রকল্পে চীনা ঋণ ও সরকারি অর্থায়ন থাকবে। প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি উন্নত ক্রেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। বর্তমানে বন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে, নতুন অবকাঠামো যুক্ত হলে বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪ লাখ টিইইউতে উন্নীত হবে, যা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক অবকাঠামো পণ্য ওঠানামার গতি বাড়াবে এবং জাহাজের অপেক্ষার সময় কমিয়ে সেবার মান উন্নত করবে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকল্প ও উন্নয়ন) শেখ শওকত আলী জানান, এই প্রকল্পটি বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের এই উন্নয়ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামও মনে করেন, নতুন জেটি ও সরঞ্জাম পণ্য ওঠানামায় সময় সাশ্রয় করবে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের আগ্রহ বাড়াবে।

মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনা সার্কিট হাউসে যাবেন তিনি। বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৫০৩টি উপজেলাতেও এই প্রতিযোগিতার সূচনা করবেন তিনি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।