কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলন্ত প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে মাহমুদুল হক (৪৫) নামের এক আসবাব ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত মাহমুদুল হক কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার পৌর শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকায় বসবাস করছেন। ওই এলাকা এবং রামু উপজেলায় তাঁর আসবাবপত্রের ব্যবসা রয়েছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিকদের মাহমুদুল হক জানান, শুক্রবার দুপুরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে তিনি রামুর দিকে যাচ্ছিলেন। খরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন দুর্বৃত্ত তাঁর পথ রোধ করে। তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়। এতে পিঠ ও কোমরসহ তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। হামলাকারীরা সটকে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার বিষয়ে আহত মাহমুদুল হকের ভাই জসিম উদ্দিনের দাবি, ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ চলছিল। ওই শত্রুতাবশত লিয়াকত আলীর ভাই জায়েদ আলী, কিতাব আলী ও ওয়াদুদ আলী এবং তাঁদের সহযোগী মো. নাসেরসহ ছয়জন মিলে এ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে লিয়াকত আলীর ভাই জায়েদের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপর দুই ভাই কিতাব আলী, ওয়াদুদ আলী ও সহযোগী মো. নাসেরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, খরুলিয়া এলাকায় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মে কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায়ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও তাঁর ভাই জায়েদের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে এবং একজন গুলিবিদ্ধ হন। সেই মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন লিয়াকত আলী।