বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন রাত নামলেই দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। যে স্থানে থাকা উচিত ছিল শিক্ষার শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ, সেই স্থানই পরিণত হচ্ছে অবৈধ রাতের কাঁচাবাজারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকেই স্কুলের পাশের সড়কজুড়ে বসে যায় মাছ, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্থায়ী বাজার। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়, শব্দদূষণ ও যানজট। গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকা এই বাজারে শতাধিক দোকান বসে, যার ফলে পুরো এলাকা একটি অস্থায়ী বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপ নেয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাজারটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধভাবে পরিচালিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই বাজারে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। রাস্তার খুঁটি ও বিভিন্ন স্থান থেকে টানা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ তার। এসব সংযোগ দিয়ে রাতভর জ্বালানো হচ্ছে শক্তিশালী বাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। এতে যেমন বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, “এক রাতেই এই বাজারে যত বিদ্যুৎ অপচয় হয়, তা দিয়ে কয়েকদিন একটি স্কুল চালানো সম্ভব।” তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ বাজারের কারণে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ।

শুধু তাই নয়, প্রতিদিন রাত শেষে বাজারের আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে স্কুলের আশপাশে। মাছ ও সবজির বর্জ্য, পলিথিন ও নোংরা পানির কারণে এলাকায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। পরদিন সকালে স্কুলে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন অবৈধ বাজার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে বাজার উচ্ছেদ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং স্কুল এলাকার পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন—যেখানে একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা থাকার কথা, সেখানে দিনের পর দিন কীভাবে একটি অবৈধ বাজার প্রকাশ্যে চলতে পারে?