চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সীমান্ত থেকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান বিএসএফের সদস্যরা। এই ঘটনার পরপরই সীমান্ত ও স্থানীয় লোকজনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পাল্টা গুলি চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৮-বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ৬১/১-এস-এর কাছাকাছি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে। সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, আহত অবস্থায় আটকের পর বিএসএফ সদস্যরা তাকে ভারতের কৃষ্ণনগর জেলার শান্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলামসহ সাতজনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ওই সময় ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টুঙ্গী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে মনিরুলের পিঠের বিভিন্ন অংশে রাবার বুলেট লাগে এবং পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার সঙ্গে থাকা অপর চোরাকারবারিরা দ্রুত সীমান্তসংলগ্ন খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
মনিরুলের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টায় থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন—হরিহরনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পর সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের পার থেকে গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আতকে ওঠেন। পরে তারা জানতে পারেন যে মনিরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাননি তারা। অন্যদিকে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, তারা বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন, তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা তথ্য পাননি। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮-বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একজন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করলে বিএসএফের টুঙ্গী ক্যাম্পের টহল দল গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ পেয়ে বিজিবির মেদিনীপুর ক্যাম্পের টহল দল দ্রুত সীমানায় পৌঁছায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা ফায়ার করে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।