কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনার সময় গুলিবিনিময়ে সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করলে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানব পাচারকারী দল গুলি চালায়। এই সংঘর্ষের সময় তিতাসের বাঁ কাঁধে গুলি লাগলে তাকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই অভিযানে যৌথ বাহিনী ৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে এবং মানব পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
শহীদ তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তিতাসের বাবা আফজাল শেখও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং ছোট ভাই আকরাম হোসেন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিতাসের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ও মা রেখা বেগম শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিতাসের মা জানান, বুধবার রাতেও তার সঙ্গে কথা হয়েছিল এবং তিতাস তাকে অভিযানে যাওয়ার কথা জানিয়ে দোয়া চেয়েছিলেন।
শুক্রবার বিকেলে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিতাসের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিতাসের মামা মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার জানান, অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের তিতাসকে হারানোর শোক মেনে নেওয়া কঠিন। নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, জানাজা শেষে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়েছে।
গতকাল তার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, স্বামীকে হারিয়ে বিলাপ করতে করতে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেছেন- আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকবো। আমার কোনো অস্তিত্ব রইলো না। আল্লাহ্, আমি এখন কী করবো? আমার তো আর কেউ রইলো না। আর সন্তান হারানোর শোকে আহাজারি করছেন মা রেখা বেগম। অশ্রুসিক্ত হয়ে তিনি বলেন, বুধবার রাতেও আমার ছেলের সঙ্গে কথা হয়
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালিকে জিম্মি করে রেখেছিল ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানব পাচারকারী দল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় যৌথবাহিনী। ওই সময়ে যৌথ বাহিনীর