ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে নিয়োগ দিয়েছেন। আগামী সোমবার থেকে মিলার তার এই নতুন দায়িত্ব বুঝে নেবেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এটি একটি বড় ধরনের রদবদল। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সাথে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি হিসেবেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে এই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন সুসি ওয়াইলস। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের কয়েকদিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। সিএনএন এবং বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দলের কৌশলের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়েই ওয়াইলস পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের রাতে ট্রাম্প তার ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াইলসকে এর জন্য দায়ী করেছিলেন। এছাড়া ওয়াইলস বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন সময় পার করছেন। তিনি প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যে কোনো চিফ অব স্টাফের চেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ট্রাম্প জানান, মিলার শুরু থেকেই তার সাথে আছেন এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওয়াইলস তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন এবং এই রদবদলের সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের নিয়োগ নিয়ে ডেমোক্রেট শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হাউস লিডার হেকিম জেফরিস তাকে বিপজ্জনক বহিরাগত-বিদ্বেষী এবং বেপরোয়া চরমপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করে সমালোচনা করেছেন।

স্টিফেন মিলার ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। এর আগে আইস কর্মকর্তাদের প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। মিলারের এই নিয়োগের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অভিবাসন নীতি আরও জোরদার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা জানান, এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার পুরনো রূপে ফিরে এসেছেন। মিলারের নিয়োগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, মিলার কখনো পিছপা হন না। এদিকে নিজ দলেও মিলারকে নিয়ে বিভক্তি রয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সেনেটর থম টিলিস তাকে অযোগ্য বললেও ইউটাহর সেনেটর মাইক লি তাকে রক্ষণশীল যোদ্ধা হিসেবে প্রশংসা করেছেন।

মিলারের অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তিনি এর আগে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী এবং গুপ্তঘাতক বলে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া ভেনিজুয়েলা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক ও মাদকবিরোধী অভিযানে তার ভূমিকা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য নিন্দিত হয়েছিল। মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারও স্বামীর এই পদোন্নতির জন্য পর্দার আড়ালে তদবির করেছিলেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিলারের এই নিয়োগের ফলে নতুন কংগ্রেসে আইন পাসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।