যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও চলমান সামরিক উত্তেজনা নিরসনে ইরান নতুন প্রস্তাব উপস্থাপনের পাশাপাশি রাশিয়া, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা ওয়াশিংটনের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ শিগগিরই জানা যাবে। হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবেই তারা ওই ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং নতুন কোনো বড় হামলা হলে তারা আরও ব্যাপক প্রতিশোধ নেবে।

কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়াসহ সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান শান্তি আলোচনায় বসবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি গত বৃহস্পতিবার মস্কো সফর করেছেন। তিনি ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদেমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা পৌঁছে দেন। রেজায়ি এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার খবরের মাধ্যমে মস্কো ও তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস দাবি করেছে, রাশিয়া ইরানকে হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহে সম্মতি দিয়েছে।

একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে আলোচনায় সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি কোনো দেশ যদি ইরানবিরোধী হামলায় সহযোগিতা করে, তবে তাদের স্থাপনাগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ওয়াশিংটনের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের বাকি অংশও ‘ধ্বংস’ করতে হতে পারে। তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা শিগগিরই জ