গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন-ভাতা এবং অবসরকালীন আনুতোষিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার (০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম) প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশের এক মহাসমাবেশে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এ সব নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পুনর্নির্ধারিত হার অনুযায়ী, সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। আর গ্রামপুলিশ প্রধানদের মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১১ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ গ্রামপুলিশদের অবসরকালীন আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকার জায়গায় ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রামপুলিশ প্রধানদের জন্য ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গ্রামপুলিশের ভূমিকা অপরিসীম। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটনা ঘটছে, কারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে কিনা— সে সংক্রান্ত আগাম তথ্য দায়িত্ব পালনের সুবাদে গ্রামপুলিশ সদস্যরা আগেভাগেই জানতে পারেন। এসব তথ্য সময়মতো স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা সহজ হয়।
দেশের অতীত সামাজিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থারই ক্ষতি করা হয়নি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ব্যাপক অবক্ষয় ঘটানো হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও হীনস্বার্থ উসকে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বিনষ্ট করা হয়, এমনকি পরিবারগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বিরোধ। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবেশ গড়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এমন সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপই যথেষ্ট হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার পাশাপাশি সমাজে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি আবার প্রতিষ্ঠা পেলে সামাজিক অপরাধের হার অনেকাংশে কমে আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে এই মূল্যবোধ পুনর্জীবিত করতে গ্রামপুলিশ সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।