অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, নিজের চেয়ে বেশি দক্ষ ও মেধাবী মানুষের সঙ্গে কাজ করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে রাখা প্রয়োজন। পিচাইয়ের বিশ্বাস, স্বস্তির জায়গায় থেকে মানুষ যতটা শেখে, চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে তার চেয়ে অনেক বেশি শেখার সুযোগ তৈরি হয়।

৫৩ বছর বয়সী সুন্দর পিচাই গুগলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। ক্রোম, জিমেইল ও ম্যাপসের মতো জনপ্রিয় পণ্যের সঙ্গে তার কাজের সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৫ সালে তিনি গুগলের সিইও হন এবং ২০১৯ সালে অ্যালফাবেটের সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি এবং ফোরচুনের হিসাবে পিচাইয়ের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

নিজের সাফল্যের পেছনে কিছুটা ভাগ্যের ভূমিকা থাকলেও, ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য তিনি আত্মবিশ্বাস বা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের চেয়ে নিজের চেয়ে ভালো মানুষদের সঙ্গে কাজ করাকে বড় বলে মনে করেন। তিনি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন সব মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাদের নিজের চেয়ে বেশি দক্ষ মনে হয়েছে। তার মতে, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মানুষকে নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে নতুন করে জানতে সাহায্য করে।

চেন্নাইয়ে বেড়ে ওঠা পিচাইয়ের শৈশবের অভিজ্ঞতাই তার এই মানসিকতা গঠনে ভূমিকা রেখেছে। তার পরিবারে শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মনে করা হতো। শৈশবে একটি রোটারি ফোনের সংযোগ পেতে তাকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যা তাকে প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। ১৯৯৩ সালে ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো পিচাই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজ, এমবিএ এবং ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানিতে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৪ সালে তিনি গুগলে যোগ দেন।

পিচাইয়ের মতে, ক্যারিয়ারে ক্রমাগত স্বস্তির জায়গা খুঁজে নেওয়ার প্রবণতা অগ্রগতিকে সীমিত করে। আইবিএমের সাবেক সিইও জিনি রোমেটিও একই ধরনের মত দিয়েছেন যে, উন্নতি ও স্বস্তি একসঙ্গে চলে না। তাই তরুণ পেশাজীবীদের প্রতি তার স্পষ্ট বার্তা হলো, ব্যর্থতাকে ক্ষত হিসেবে না দেখে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং এমন সব দলে কাজ করতে হবে যেখানে নিজের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এই অস্বস্তিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই হলো ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।