চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রবাসফেরত মোহাম্মদ হাশেম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়শা আকতারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ৭ নভেম্বর, শনিবার সকালে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বসতঘর থেকে আয়শাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতু এলাকায় চন্দনাইশ অংশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হাশেমকে উদ্ধার করেন পথচারীরা। এ সময় তাঁর ডান পা থেঁতলে ও ভেঙে গিয়েছিল। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের দিকে হাত নেড়ে তিনি বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকার ফুফাতো বোন আয়শা আকতারের সঙ্গে বিয়ে হয় হাশেমের। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাবার সম্পত্তি ভাগের পর নিজের অংশ বিক্রি করে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান হাশেম। সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। তিনি প্রায় চার বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকার পর এক বছর আগে দেশে ফেরেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক বিরোধ চলছিল এবং তাঁকে নির্যাতন করা হতো। গত মাসেও মারধর করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে হাশেমের ওপর বেধড়ক নির্যাতন চালান। এতে তাঁর ডান পা ভেঙে ও থেঁতলে যায়। পরে বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়া হয়। চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে হাশেম হত্যাকাণ্ডে স্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আনোয়ারা সার্কেলের এএসপি মাহমুদুল হাসান জানান, নিহতের বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার স্ত্রী আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।