প্রায়শ্চিত্তের এক অনন্য নজির গড়ে সিলেট টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন তাওহিদ হৃদয়। আগের টেস্টে ভুল শট খেলে আউট হওয়ার বিষাদ কাটিয়ে এই ইনিংস যেন নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়ার এক আনন্দময় উদযাপন। ডাবল সেঞ্চুরি নিশ্চিত করার পর হেলমেট ব্যাটের ওপর রেখে ড্রেসিংরুমের দিকে দৌড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল যেন বহুদিন ধরে জমে থাকা কোনো ঋণ শোধের মুহূর্ত।

ম্যাচের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না বাংলাদেশের জন্য। মাত্র ২২ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ডুবন্ত নৌকার মতো অবস্থা হয়েছিল দলের। চাপের মুখে হাল না ছেড়ে উইকেটে টিকে থেকে প্রথম দিন শেষে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। এরপর সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্টেছে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন; কখনো রক্ষণে অবিচল থেকেছেন, আবার সুযোগ বুঝে হয়েছেন আক্রমণাত্মক।

হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের বিবর্তন ছিল দেখার মতো। প্রথম ৫০ রান করতে লেগেছিল ১০৯ বল ও ১৭৮ মিনিট। এরপর সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে লাগে ৬২ বল ও ৮০ মিনিট, দেড় শ রানে যেতে ৬৪ বল ও ৬৭ মিনিট এবং শেষ পর্যন্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে তিনি খরচ করেন মাত্র ৬৯ বল ও ৯০ মিনিট। প্রতিবেদনটি লেখার সময় তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩৫১ বলে ২৩৬ রান করে।

এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে শেষ দুই ব্যাটসম্যানের সঙ্গে তাঁর জুটিতে। সতীর্থরা একে একে বিদায় নিলেও হৃদয় ধৈর্য ধরে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে আগলে রেখে ১৭২ রান যোগ করেছেন। দলের প্রয়োজনে নিজের মাইলফলকের চেয়েও লিড নেওয়াকে বড় করে দেখেছেন তিনি। মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। তবে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন। মাত্র ষষ্ঠ টেস্ট ইনিংসেই এই উচ্চতায় পৌঁছানো ভবিষ্যতে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।