অতীতের মতো বর্তমানেও যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত র্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা এবং ডামি নির্বাচনের মতো ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের চেতনায় জাতি ঐক্যবদ্ধ। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। র্যালির সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। মানিক মিয়া এভিনিউতে সমাপনী বক্তব্যের পর সন্ধ্যায় সেখানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
র্যালি শুরুর সময় অস্থায়ী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বেলা ১২টা থেকে নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমবেত হতে শুরু করেন। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের হাতে লাল-সবুজ পতাকা এবং জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের সমর্থন চাইলে তারা স্লোগান দিয়ে সাড়া দেন। তিনি বলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা যেভাবে স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিতাড়িত করেছে, ভবিষ্যতেও যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেবে।
এদিকে, জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি করে সদস্যদের ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ১১ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেন। এছাড়া প্রত্যেক সদস্যকে মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল বিল এবং থানায় যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা (প্রধানদের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা) করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা সদস্য পর্যায়ে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রধানদের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন থেকে মহল্লাদার ও দফাদাররা যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত হবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে দুইজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ এবং তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি সড়ক তাদের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে বিএনসিসি, স্কাউট ও ক্যাডেটদের ডিসপ্লে অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ৭ই নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসের 'ম্যাগনাকার্টা' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাস সচেতন এই প্রজন্ম ৭ই নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।