ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের সরকারি প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর অংশ হিসেবে রোববার সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে তাঁরা রেল ও সড়কপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলনের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
অবরোধের কারণে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আটকা পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কক্সবাজারগামী বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অবস্থান করছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কেও যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন উপজেলা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয় এবং পরে তা আখাউড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখন সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন ভেঙে আখাউড়ার বরিশল ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার একটি ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন তাঁরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম ট্রেন আটকা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন করা ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিল
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। পরে ইউনিয়নটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়।