ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আগামী সোমবার শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে অধিবেশনের বৈঠক বসবে। রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এ সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অংশ নেন। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রয়োজনে অধিবেশনের সময়সীমা এবং কার্যদিবস পরিবর্তনের সার্বিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্পিকারকে।
আসন্ন এই অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একটি সরকারি বিল পাওয়া গেছে। এছাড়া আগের অধিবেশনের পর সরকার কর্তৃক জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ প্রথম বৈঠকেই সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অধ্যাদেশগুলো হলো—পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ।
অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয়ে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ১৭৪টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্ন জমা পড়েছে; অর্থাৎ সর্বমোট প্রশ্নের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫১টি। পাশাপাশি কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ৯২টি নোটিশ পাওয়া গেছে। একই বিধির ১৩১ ধারা অনুসারে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্তের জন্য ২৮১৮টি নোটিশ জমা হয়েছে।
কার্য উপদেষ্টা কমিটির এই বৈঠকে সংসদ চত্বরকে ‘ধূমপান মুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত সব সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পাশাপাশি সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমের সার্বিক উন্নয়ন কাজের অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে সংসদ সচিব গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নতুন সাউন্ড সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
বৈঠকে সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি নিয়েও বিষদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হলে মোট ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। অধিবেশন চলাকালে সংসদের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ৬ মেগাওয়াট এবং অন্য সময়ে চাহিদা আরও কম থাকে। ফলে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিদ্যুৎ সংরক্ষণের (স্টোরেজ) ব্যবস্থা রেখে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বৈঠকে ই-পার্লামেন্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সচিবালয়ের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার।
কমিটির বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম অংশ নেন।