সরকারি অফিস ও আদালতে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রশাসন অপরিহার্য। এই গুণাবলি কেবল একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র এবং সরকারকেও সমৃদ্ধ করে। বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে সবমিলিয়ে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে আপনারা কেউ প্রশাসনে, কেউ পররাষ্ট্র, কেউ কৃষি, কেউ টেক্সেশন, শিক্ষা কিংবা তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। কর্মস্থল আলাদা হলেও জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে আপনাদের মূল পরিচয় আপনারা জনগণের সেবক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মক্ষেত্রে কী করা উচিত বা অনুচিত, তা আপনারা ভালোভাবেই জানেন। এখন প্রয়োজন কেবল সেই বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সদিচ্ছা। সরকার প্রধান হিসেবে আমার চাওয়া হলো, যেকোনো বয়সের নাগরিক যেন কোনো সহযোগিতার জন্য আপনাদের কাছে এসে হয়রানির শিকার না হন, সেটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পছন্দের পদায়ন বা পদোন্নতির জন্য কেউ কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস করেন। তবে দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখাই চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচায়ক।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, মনে রাখা জরুরি যে কোনো সরকার বা জনপ্রশাসনের পদ কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকা দোষের নয়, তবে তার প্রতিফলন সরকারি অফিসে নয়, বরং ব্যালট বাক্সে হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা মূলত জনগণেরই দলিল। তাই এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাজটি কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে করতে হবে। এছাড়া প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সেবা সহজ ও জনবান্ধব করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়ে কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মানসিকতা বেশি কার্যকরী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।