অনলাইন ডেস্ক :
অবস্থিত ডাকিনীর-পাঠ বাজার দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ বছর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বাজারটি শুধু বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
🔹 ঐতিহ্যের পেছনের গল্প
বাজারের মাঝখানে একটি কালী মন্দির থাকায় ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গরু জবাই না করার অনুরোধ জানানো হয়। মুসলিম ব্যবসায়ীরা সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে দীর্ঘ চার দশক ধরে বাজারে গরু জবাই বা মাংস বিক্রি থেকে বিরত থাকেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও এই প্রথা অটুট ছিল।
🔹 সাম্প্রতিক ঘটনা
গত ১২ এপ্রিল ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজারে প্রথমবারের মতো গরু জবাইয়ের ঘটনা ঘটে। এতে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
🔹 সমঝোতা ও বর্তমান অবস্থা
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নাগেশ্বরী থানায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়—পূর্বের মতো বাজারে গরু জবাই বন্ধ রাখা হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
🔹 স্থানীয়দের মতামত
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো বিরোধ চাই না, সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই।”
জয়নাল আবেদীন জানান, “পাশে অন্যান্য বাজার থাকায় মাংস কেনায় সমস্যা হয় না, তাই ঐতিহ্য রক্ষা করাই ভালো।”
মন্দির কমিটির সদস্য কাঞ্চন কুমার বর্মন বলেন, “আমাদের অনুরোধকে মুসলিম ভাইরা এতদিন সম্মান করেছেন।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, “চাহিদা বেড়েছে, তাই প্রথা পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে।”