পত্নীতলা নওগাঁ প্রতিনিধি:

বৈশাখের সোনালী রোদে মাঠজুড়ে পাকা ধানের ঘ্রাণে মুখর থাকার কথা ছিল গ্রামবাংলা। কৃষকের গোলা ভরা ধান আর নবান্নের আনন্দে মাতার স্বপ্নই ছিল বাস্তবতার কাছাকাছি। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম রুদ্রমূর্তিতে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ আজ শোকস্তব্ধ—আনন্দের বদলে চারদিকে কেবল হতাশা আর হাহাকার।
গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং সীমান্ত পেরিয়ে আসা উজানের ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এলাকার বৃহৎ জলাভূমি ‘নান্দাস বিল’ এখন এক বিশাল জলরাশিতে রূপ নিয়েছে। যেখানে একসময় সবুজ-সোনালী ধানের ক্ষেত ছিল, সেখানে এখন শুধু থৈ থৈ পানি। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে হাজার হাজার বিঘা জমির আধাপাকা ও পাকা বোরো ধান, যা ধীরে ধীরে পচে নষ্ট হচ্ছে।
মাঠের চিত্র: স্বপ্ন যখন জলমগ্ন
সরেজমিনে আমাইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। কোমর কিংবা বুকসমান পানিতে নেমে কৃষকরা শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটতে ব্যস্ত। কেউ কাস্তে হাতে, কেউ বা ছোট নৌকা নিয়ে ধান সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোত, নরম কাদা এবং ডুবে থাকা ফসল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছর এই সময়টাতে তারা ধান ঘরে তোলার উৎসবে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এবারের এই অকাল বন্যায় তাদের সব আশা ভেস্তে গেছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, এখন ফসল হারিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতির পরিমাণ ও কৃষকের হতাশা
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে এই সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করবে।
প্রশাসনের ভূমিকা
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাতে পত্নীতলার কৃষকদের মুখে আজ আর হাসি নেই। সোনালী স্বপ্ন ভেঙে গিয়ে তাদের চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার ছায়া।