কক্সবাজারে এতিম শিশুকে ধ/র্ষণ: দারোয়ানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কক্সবাজার, প্রতিবেদক :

কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসা ও এতিমখানার এতিম শাখার এক শিশুকে ধর্ষ/ণের দায়ে অভিযুক্ত দারোয়ান মহিউদ্দিন ওরফে মহদ্দিন (৪৫)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কক্সবাজারের শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা।
দণ্ডপ্রাপ্ত মহিউদ্দিন কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল এলাকার সাকের হোসেন ও নুরজাহানের ছেলে। বর্তমানে তিনি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসায় দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সকালে নাস্তার প্রলোভন দেখিয়ে এতিমখানার ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে নিজের কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন মহিউদ্দিন। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি এতিমখানার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানানো হলেও তা অভিভাবককে অবহিত করা হয়নি।
ঘটনার চারদিন পর, ২০ মার্চ শিশুটির অভিভাবক মাদরাসায় গিয়ে নাতনির কাছ থেকে ঘটনা জানতে পারেন। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরামর্শে ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। একই দিন পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
পরে মামলার তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পর ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জামিনে বের হয়ে পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারের পর থেকেই তার সাজাভোগ কার্যকর হবে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হরি সাধন পাল জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এদিকে, মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, অভিযোগের পরপরই অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। রায়ের কপি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।