নিত্যপণ্যের বাজারে ফের উত্তাপ, চড়া মূল্যে দিশেহারা ক্রেতা
সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও সামান্য কমেছে মুরগি; নাগালের বাইরে মাছ ও মাংস
ঢাকা, ২২ মে ২০২৬: রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার যেন কোনোভাবেই শান্ত হচ্ছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম আরেক দফা বেড়েছে। আগে থেকেই বাড়তি থাকা মাছ ও গরুর মাংসের চড়া মূল্য সাধারণ ক্রেতাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে কেবল ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম সামান্য কমলেও তা সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষোভে মলম দিতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যদিনের বাজার করা দিন দিন এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে বাজারের এমন অস্থিতিশীল চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজারে যেন ‘আগুন’
সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। পটল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়সের দামও ৬০ টাকার ওপরে। গ্রীষ্মকালীন অন্যান্য সবজির দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো অজুহাতে সবজির দাম বাড়ছে। বাজারে এমন কোনো সবজি নেই যা ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায়। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তি নেই
মাংসের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংসের দাম এখনো উচ্চমূল্যেই আটকে আছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে তা ৮০০ টাকাও ছূঁয়েছে।
অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের আগে মাছের বাজারেও চলছে চরম অস্থিরতা। সাধারণের প্রিয় রুই, কাতলা থেকে শুরু করে চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। মধ্যবিত্তের পকেট কাটছে ইলিশ ও চিংড়ি মাছ।
সামান্য কমেছে মুরগির দাম
বাজারের এই সার্বিক ঊর্ধ্বগতির মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম মুরগির বাজার। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ২১০ টাকার ওপরে ছিল। তবে ক্রেতাদের মতে, এই সামান্য দাম কমায় বাজারের সামগ্রিক চাপে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বক্তব্য
বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি বাজারে সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার মনিটরিং বা নজরদারির অভাবেই সিন্ডিকেট চক্র বারবার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বে বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি রোধ করা না গেলে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।
অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা