ছাত্রদলের আবেদনে ঈদে বেরোবি প্রশাসনের বিশেষ বাস সেবা, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
বেরোবি প্রতিনিধি :
আসন্ন ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ বাস সেবার ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের নেওয়া এই উদ্যোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের উদ্দেশ্যে পরিবহন পুলের ৫টি বাস ছেড়ে যায়।
ক্যাম্পাসে ঈদযাত্রার আনন্দঘন পরিবেশ
সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে বাড়ি ফেরার আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা।
পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন (রেজিস্ট্রেশন) নেওয়া হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে রাতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থী এবং যারা আগে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
যেসব রুটে চলছে বাস
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে প্রথম ধাপে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে এই সেবা চালু করা হয়েছে:
-
ঢাকা
-
বগুড়া
-
নাটোর
-
কুড়িগ্রাম
-
পঞ্চগড়
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রিফা লুবানা রানিয়া নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি যেতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আগে দেখতাম শুধু রংপুরের আশপাশের শিক্ষার্থীরাই বাসে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেত, আমরা দূরের ছাত্ররা বঞ্চিত হতাম। এবার আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”
একই অনুভূতি ব্যক্ত করে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সিয়াম হোসাইন বলেন, “বেরোবি প্রশাসন ও ছাত্রদলের ভাইদের বিশেষ ধন্যবাদ। এই আরামদায়ক যাত্রা আমাদের ঈদ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই এই সেবা ভবিষ্যতেও চালু থাকুক।”
তবে দূরবর্তী অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধার আওতায় আসার দাবি জানিয়েছেন। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বরিশালের বাসিন্দা বাপ্পি আহমেদ বলেন, “বরিশালসহ অন্যান্য দূরবর্তী বিভাগীয় শহরগুলোতেও যদি এই বাস সেবা চালু করা যেত, তবে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতো।”
ছাত্রদল ও প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত বাস দেওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। সকাল থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীদের বাসে ওঠার বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। দূর দূরান্তের শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে সব বিভাগীয় শহরে যেন বাস দেওয়া হয়, সেই আবেদন আমরা করব। এছাড়া সাবেক শিক্ষার্থীরাও এই একই বাসে ঢাকা থেকে রংপুরে ফিরতে পারবেন।”
পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আমাদের নিজস্ব ৭টি বাসের মধ্যে ৫টি বাস এই বিশেষ সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। বাকি দুটি বাস দূরপাল্লার যাত্রার উপযোগী নয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকায় আরও একটি বাস বাড়াতে পারিনি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য—শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে, সুস্থভাবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বাড়ি পৌঁছাতে পারে।