কুড়িগ্রামে প্রস্তুত সোয়া ৩ লাখের বেশি কোরবানির পশু: রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তে প্রতিটি হাটে থাকছে মেডিক্যাল টিম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে গবাদি পশু পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার খামারিরা। অতিরিক্ত গরমে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচাতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে জেলার প্রতিটি পশুর হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম।
চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত, লক্ষ্য দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলায় বিক্রির জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে জেলার ৯টি উপজেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি ৪৩ হাজারের বেশি পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হবে।
খামারিরা জানান, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন তারা। পশুর খাদ্য হিসেবে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড় ব্যবহার করা হচ্ছে। খামারগুলোতে দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহামা প্রজাতির গরুর ব্যাপক সমাদর দেখা গেছে। গরুকে যেন কোনো ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ দেওয়া না হয়, তা তদারকি করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
২৯টি হাটে থাকবে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি টিম
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫টি স্থায়ী এবং ১৪টি অস্থায়ীসহ মোট ২৯টি পশুর হাট বসছে। এসব হাটে আসা অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত পশু দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য কাজ করবে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম।
যাত্রাপুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আজিজার মোল্লা বলেন,
“হাটের বেচাকেনা ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। ব্যাপারী ও কোরবানিদাতারা দরদাম শুরু করেছেন। তবে হাটের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই সরাসরি খামারে গিয়েও পশু কিনছেন। হাটে সার্বক্ষণিক মেডিক্যাল টিম থাকায় আমরা বেশ স্বস্তি বোধ করছি।”
একই কথা জানালেন ঘোগাদহ এলাকার খামারি মাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সন্তানের মতো করে গরুগুলোকে বড় করেছি। কোনো কৃত্রিম ওষুধ ছাড়াই শুধু দেশীয় খাবার খাইয়েছি। যেকোনো সমস্যায় প্রাণিসম্পদ অফিসের চিকিৎসকদের দ্রুত সহযোগিতা পাচ্ছি।”
যা বলছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন,
“খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কোরবানির হাটে সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। জেলার ৯টি উপজেলার প্রতিটি হাটে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম সক্রিয় থাকবে। খামারে বা হাটে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার রোধে আমরা সচেতনতামূলক কাজ করছি এবং যেকোনো পশুর রোগবালাইয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।”
বাজার মূল্য সঠিক থাকলে এবার প্রান্তিক কৃষক ও বড় খামারিরা ভালো লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ।