মহিমাগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা করার দাবি: আগামী ২৯ মে রেলওয়ে স্টেশনে গণসমাবেশের ডাক
বিশেষ প্রতিনিধি, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) |
অনলাইন সংস্করণ
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী ও শিল্পসমৃদ্ধ জনপদ মহিমাগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২৯ মে (শুক্রবার) এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ওই দিন বিকেল ০৩:০০ ঘটিকায় মহিমাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে এই গণসমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন ও শালমারা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে এই কর্মসূচিতে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ যুবনেতা কে. এম. আলমগীর কবির (মহাসীন)।
তিনি মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব পদপ্রার্থী, মহিমাগঞ্জ রাজনৈতিক থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গোবিন্দগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা।
কর্মসূচির বিষয়ে জেলা প্রতিনিধি আলমগীর কবিরের সাথে আলাপকালে যুবনেতা কে. এম. আলমগীর কবির (মহাসীন) বলেন, “আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, ঐতিহ্যবাহী এই মহিমাগঞ্জকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে থানা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই অঞ্চলকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মহিমাগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে যে তৎপরতা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা মহিমাগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের একটি বড় ধাপ।”
তিনি আরও বলেন, “আজ সেই দাবি আবারও গণদাবিতে রূপ নিয়েছে এবং আমরা বাস্তবায়নের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। দল-মত নির্বিশেষে এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়।”
কেন মহিমাগঞ্জ উপজেলা হওয়া যৌক্তিক?
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণার পক্ষে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে:
-
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিশাল জনসংখ্যা: গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মহিমাগঞ্জের দূরত্ব অনেক বেশি। এই বিশাল জনসংখ্যার সাধারণ মানুষের জন্য সামান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য সদরে যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। মহিমাগঞ্জ উপজেলা হলে সরকারি সেবা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
-
শিল্প ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব: উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘রংপুর চিনি কল’ মহিমাগঞ্জেই অবস্থিত। এছাড়া এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বড় রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন এলাকা। একে উপজেলা করা হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
-
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: গোবিন্দগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহত্তম উপজেলা হওয়ায় একটি মাত্র প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে এত বড় এলাকার সুচারু নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। মহিমাগঞ্জ আলাদা উপজেলা হলে মূল সদরের ওপর চাপ কমবে এবং উভয় অঞ্চলের মানুষ দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক সেবা পাবে।
-
জীবনযাত্রার মান ও কর্মসংস্থান: নতুন উপজেলা হলে এখানে আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস, মডেল থানা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর স্থাপিত হবে। এর ফলে অবহেলিত গ্রামীণ জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা ও ঐক্যের ডাক
যারা এই যৌক্তিক দাবির বিরোধিতা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে যুবনেতা আলমগীর কবির মহাসীন বলেন, “উন্নয়ন কারো একার নয়। মহিমাগঞ্জ উপজেলা হলে শুধু মহিমাগঞ্জ নয়, আশেপাশের ইউনিয়নগুলোর মানুষেরও যাতায়াত ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এটি কারো অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক সমৃদ্ধির একটি নতুন পথ উন্মোচন করা।”
সবশেষে, আগামী ২৯ মে মহিমাগঞ্জ ও শালমারা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে কোনো ভেদাভেদ না রেখে, নিজেদের অধিকার আদায়ের এই শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘মহিমাগঞ্জ উপজেলা চাই-চাই, দিতে হবে ইনশাআল্লাহ’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে এলাকাবাসী এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।