গোবিন্দগঞ্জে চলাচলের রাস্তা বন্ধে ৭ পরিবার অবরুদ্ধ, মিলছে না প্রতিকার
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৬নং দরবস্ত ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের দীর্ঘদিনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ৭ থেকে ৮টি পরিবার সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আমজাদ হোসেন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো কোনো স্থায়ী প্রতিকার মেলেনি বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
দীর্ঘ ৭০ বছরের রাস্তা, হঠাৎ অবরুদ্ধ
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আমজাদ হোসেনসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যাতায়াতের সুবিধার্থে উভয় পক্ষের জমির মধ্য ও পাশ দিয়ে দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে একটি রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার বাসিন্দা:
-
মোঃ মিজানুর রহমান (মিজু)
-
আলহাজ মজনু মিয়া
-
মোঃ শামীম মিয়া
-
মোঃ সেলিম মিয়া
সহ অভিযুক্তরা তাদের ক্রয়কৃত জমির পাশ দিয়ে নির্মিত ওই জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার মুখে জিআই (GI) তারের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ চলাচল বন্ধ করে দেন।
ভোগান্তির চিত্র: রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল-কলেজগামী ছেলেমেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এমনকি হাটবাজার ও চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনেও কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। অবরুদ্ধ পরিবারগুলো কার্যত গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতিবাদ করায় লাঠিসোটা নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাস্তার মুখ বন্ধ করার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ চড়াও হয়। তারা ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিরোধপূর্ণ জমির বিবরণ:
মৌজা- হোসেনপুর, জে.এল নং- ১৪৫, হাল দাগ নং- ৩৭২, ৩৭৩, ৩৬৫ ও ৩৬২। এই দাগগুলোর মধ্য ও পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও চলাচল নিয়েই মূলত এই বিরোধের সৃষ্টি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর ভুক্তভোগীরা থানা ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও আকুতি জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসীর মনে। দ্রুত এই বেড়া অপসারণ করে চলাচলের রাস্তাটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন চক্রবর্তী জানান:
“অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”