দোহারে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদের জামাত সম্পন্ন: উৎসবের আমেজে ভাসছে উপজেলা
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার:
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় ঢাকার দোহার উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। আজ ২৮ মে, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার প্রধান প্রধান ঈদগাহ ময়দান ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদগুলোতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। নামাজ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি শুরু হওয়ায় চারদিকে এখন বইছে আনন্দের বন্যা।
মুখরিত ঈদগাহ ও প্রধান জামাতসমূহ
আজ সকাল থেকেই দোহারের প্রতিটি জনপদ উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। সুগন্ধি মেখে, নতুন পাঞ্জাবি পরিধান করে সব বয়সের মানুষ দল বেঁধে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
-
প্রধান জামাত: উপজেলার অন্যতম প্রধান ও কেন্দ্রীয় জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
-
অন্যান্য জামাত: এছাড়া জামালচর, পালামগঞ্জ, মেঘুলা, নারিশা, কার্তিকপুর, লটাখোলা এবং পদ্মা সরকারি কলেজ ঈদগাহ মাঠসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের জামাতগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে।
এসব জামাতে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন।
প্রশাসনের তৎপরতা: গত কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টির ধকল সামলে আজ সকালে চমৎকার রোদ ঝলমলে আবহাওয়া দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের আগাম তৎপরতায় ঈদগাহগুলোর কাদা এড়াতে বালু ও ইটের খোয়া ছিটানো হয়। সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে মুসল্লিরা অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে নামাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
খুতবা ও বিশ্ব মুসলিমের জন্য মোনাজাত
নামাজ শেষে প্রতিটি ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের বিশেষ খুতবা পাঠ করা হয়। ইমাম সাহেবরা তাঁদের বয়ানে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য, হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের আদর্শ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়ার হক যথাযথভাবে আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
খুতবা শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে দোহার উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সুখ-শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।
কোলাকুলি ও ত্যাগের মহিমা
নামাজ ও মোনাজাত শেষে শুরু হয় ঈদের চিরচেনা আনন্দ-কুশল বিনিময়। ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন, যা এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সব মিলিয়ে ত্যাগের আনন্দ আর উৎসবের আমেজে দোহারের সর্বত্র এখন আনন্দের বন্যা বইছে।