ব্রহ্মপুত্রে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ, টোলঘর ভাঙচুর
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ক্রাইমওয়াচ২৪বিডি
কুড়িগ্রাম: ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উত্তাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনতা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের একটি টোলঘর ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মূল ঘটনা সংক্ষেপে:
-
স্থান: চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এলাকা, কুড়িগ্রাম।
-
দাবি: ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
-
জনতার অ্যাকশন: বিক্ষোভ শেষে বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধ টোলঘর ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়া।
-
আশঙ্কা: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারের স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ ও কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি।
হুমকিতে সরকারের কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট থেকে কাচকোল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের ডান তীরে ভাঙনরোধে একটি স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই বাঁধের একেবারে সন্নিকটে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থায়ী বাঁধসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম এখন চরম ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। স্থানীয়রা বারবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হন।
পরিবেশবাদী ও নদী রক্ষা কমিটির হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন নদী বিষয়ক সংগঠন ‘রিভারাইন পিপল’-এর পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“প্রশাসন যদি দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধটি ধসে পড়বে। আর এই বাঁধ ভেঙে গেলে পাশের কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী রক্ষা কমিটি’র সভাপতি নিহারিকা শারমিন দীপি বলেন, “নদী ও জনপদ বাঁচাতে আমাদের এই আন্দোলন। প্রশাসনকে অবিলম্বে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কমিটির কার্যকরী সদস্য মো. শাহজালাল, স্থানীয় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, খন্দকার বদরুল ইসলাম রাঞ্জু, আশিক ইকবাল ইশাত, রফিকুল ইসলাম রতন এবং আকতারা লিপি।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।