তীব্র দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি: ঢাকার তিন উপজেলায় জনজীবনে স্বস্তি
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা: জ্যৈষ্ঠের টানা তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে যখন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল জনজীবন, ঠিক তখনই প্রকৃতির পরম আশীর্বাদ হয়ে নামল এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) জুমার নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। ক্ষণিকের এই বৃষ্টিতে তপ্ত প্রকৃতি যেমন শীতল হয়েছে, তেমনি ধুলোবালি ও ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এই তিন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
শ্রমজীবী ও মুসল্লিদের মনে স্বস্তি
গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার এই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। সকাল হতেই সূর্যের প্রখর তীব্রতায় ঘরের বাইরে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তবে আজ দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা শুরু হয় এবং জুমার আজানের ঠিক আগ মুহূর্তে মুষলধারে বৃষ্টি নামে।
হঠাৎ এই বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন পথচারী ও জুমার নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরা। নামাজ শুরুর আগে বৃষ্টি হওয়ায় পরিবেশ অনেকটাই ঠান্ডা হয়ে আসে। যদিও বৃষ্টির স্থায়িত্ব খুব বেশি সময় ছিলছিল না, তবুও বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা কমে গিয়ে এক মনোরম ও শীতল পরিবেশ তৈরি হয়।
কৃষিতে সঞ্জীবনী সুধা
এই বৃষ্টি কেবল সাধারণ মানুষের মনেই স্বস্তি ফেরায়নি, বরং স্বস্তি এনেছে স্থানীয় আম ও পাট চাষিদের মনেও। তীব্র খরতাপের কারণে যেখানে ফলন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেখানে এই বৃষ্টি প্রকৃতির জন্য সঞ্জীবনী সুধা হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অনুভূতি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের টানা গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও টেকা যাচ্ছিল না। ফ্যান বা এসি চালিয়েও স্বস্তি মিলছিল না। জুমার ঠিক আগে প্রকৃতির এই উপহার যেন পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি দূর করে দিল।
“কয়েকদিন যে গরম ছিল, তাতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আজকের এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত।” – স্থানীয় এক বাসিন্দা।
যদিও বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে, যা বাতাসের শীতল ভাব বজায় রেখে গরমের তীব্রতাকে অনেকটাই কমিয়ে রেখেছে।