গোদাগাড়ীতে ৩ দিন ব্যাপী ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ সম্পন্ন: আধুনিক প্রযুক্তিতে উদ্বুদ্ধ কৃষকেরা

রাজশাহী প্রতিনিধি  :

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৩ দিন ব্যাপী “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬”। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), গোদাগাড়ী কর্তৃক আয়োজিত এই মেলাটি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

​মেলাটির বিভিন্ন সেশনে এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ। মেলায় উপস্থিত ছিলেন,​সম্মানিত অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহী। ​সম্মানিত উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), রাজশাহী। ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), গোদাগাড়ী, রাজশাহী।​উপজেলা কৃষি অফিসার,মরিয়ম আহমেদ।

​এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও বিপুল সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।

​৩ দিন ব্যাপী এই মেলায় জলবায়ু সহনশীল কৃষির নানাবিধ আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। মেলা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্টলে কম পানিতে অধিক ফলনশীল জাতের ফসল, ড্রিপ ইরিগেশন (বিন্দু সেচ), সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প, মালচিং পেপার পদ্ধতি এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী করা হয়েছে। উপস্থিত কৃষকেরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এসব প্রযুক্তি দেখেন এবং মাঠ পর্যায়ে তা ব্যবহারের নিয়মাবলী সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ধারণা নেন।

​মেলায় আগত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতির পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ বা জলবায়ু-বান্ধব প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির স্তর বিবেচনা করে কম খরচে এবং কম পানিতে কীভাবে অধিক লাভজনক ফসল ফলানো যায়, এই মেলা তারই একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তারা কৃষকদের এসব আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

“কৃষকদের আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গোদাগাড়ীর কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।” — এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

​মেলাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ৩ দিন ধরে চলা এই মেলায় প্রতিদিন প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও পরামর্শ দেওয়া হয়। সমাপনী দিনে মেলায় অংশ নেওয়া সফল চাষী ও স্টল বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই সফল আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।