বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার দেশের শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে উপেক্ষা করছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের আমির তাঁর বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:
-
স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের অভাব: ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে চাচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সে জায়গাগুলো এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে।
-
জনগণের মতামতের অবমূল্যায়ন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ একটি বড় পরিবর্তনের আশা করেছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কার পরিষদের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের এই রায় ও মতামতকে অগ্রাহ্য করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
-
বিরোধী দলের অবস্থান: তিনি জানান, এই গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এটি কোনো একক দলের নয়, বরং সাধারণ জনগণের দাবি।
-
সামাজিক অবক্ষয় ও ব্যর্থতা: সমাজে উচ্চশিক্ষিতদের একটি বড় অংশ আমানতের খেয়ানত করছে এবং অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ ও ইজ্জত হরণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুইবার স্বাধীনতা অর্জিত হলেও দেশ পরিচালনাকারীদের ব্যর্থতার কারণে আজও দেশে সামাজিক শৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
উক্ত অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।