জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: মানবতাবিরোধী অপরাধে জাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারিত রায়ে ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি ষষ্ঠ মামলার রায়।
রায়ের বিস্তারিত
মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে হাসানুল হক ইনু আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে কাঠগড়ায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি কোনো ধরনের শারীরিক সহায়তা না নেওয়ার অনুরোধ জানান।
তার বিরুদ্ধে মোট ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বাকি ৫টি অভিযোগ (১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর) থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও রায়ের বিবরণ
১ নম্বর অভিযোগ: ভারতীয় গণমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উসকানিমূলক আখ্যা ও হত্যার নির্দেশ — খালাস।
২ নম্বর অভিযোগ: ১৪-দলীয় জোটের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন — খালাস।
৩ নম্বর অভিযোগ: কুষ্টিয়ার এসপিকে আন্দোলনকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও নির্যাতনের নির্দেশ — দোষী।
৪ নম্বর অভিযোগ: মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার দিয়ে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা — খালাস।
৫ নম্বর অভিযোগ: গণমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সমর্থন ও উসকানিমূলক বক্তব্য — খালাস।
৬ নম্বর অভিযোগ: জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ — দোষী।
৭ নম্বর অভিযোগ: শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা — দোষী।
৮ নম্বর অভিযোগ: কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ সারা দেশে ব্যাপক হতাহতের নির্দেশ — খালাস।
এই রায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিলের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।