গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকায় ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দুই সহোদর জামাল শেখ ও রঞ্জু শেখ এবং শেখ শামীম আহমেদ। একই রায়ে আদালত আসামি বিল্লাল শেখ ও মাহমুদা খানম উষাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া, অপহরণে সহায়তার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পৃথকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মাহমুদা খানম উষাকে হত্যা ও অপহরণ উভয় আইনের আওতায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, এটি কেবল একটি হত্যা মামলা নয়, বরং অপরাধীদের নিষ্ঠুরতায় এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির দলিল। সমাজে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ দমনে এই রায় দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে কাজ করবে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই শবে বরাতের রাতে ইতালিপর্বাসী রেজাউল ইসলামের ছেলে মাহফুজকে বাড়ি থেকে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করা হয়। এরপর মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে প্রায় ৪৫ দিন আটকে রাখার পর শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মেহগনি বাগানে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। পরে ২০ আগস্ট ঈদের রাতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত শেষে কাশিয়ানী থানার এসআই নিজাম শিকদার ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায়ে সাব্বির ওরফে রাজীবকে হত্যার অভিযোগ থেকে এবং মিজানুর রহমান মিজান, কামনা বেগম, শেখ সোহরাব, তুহিন শেখ, শেখ সাকিব আহম্মেদ, রাকিব শেখ, সাব্বির আহম্মেদ, মিনারুল ইসলাম ও মঞ্জু শেখকে উভয় অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় জড়িত মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন শিশু হওয়ায় তাদের ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর ১০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়েছিল।