পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন এই আইনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। যে কোনো উপায়ে প্রশ্নফাঁসের দায়ে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যদিও বিদ্যমান আইনে এই সাজা ১০ বছর ছিল। এছাড়া বিলে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা লুকানোর মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় বৈধ নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার লক্ষ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তির চেষ্টার জন্যও সমপরিমাণ সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধে বলা হয়েছে, কোনো উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন (ওভার অ্যাসেস) বা অবমূল্যায়ন (আন্ডার অ্যাসেস) করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে; তবে এক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই আইনে অপরাধ করলে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন রহিত করে এই নতুন বিলটি আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে আইনটি হলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।