সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি প্রদান করেছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদগুলোও বাতিল ঘোষণা করেছিল আদালত।

পরবর্তীতে গত বছরের ৮ জুলাই হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন জানিয়ে লিভ টু আপিল করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং মোফাজ্জল হোসেন পৃথকভাবে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

শুনানিতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির অংশ নেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কার্যত সংবিধান পুনর্লিখনের শামিল। তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সংসদের বিবেচনার আওতাধীন। কোন সংশোধনী বহাল থাকবে বা পরিবর্তন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত আদালতের পরিবর্তে সংসদের নেওয়া উচিত। তার মতে, প্রস্তাবনায় আনা পরিবর্তনগুলোর বিষয়েও আদালতের পরিবর্তে জুলাই চার্টারের আলোকে সংসদেই বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।