সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন। বুধবার আংশিক শুনানির পর আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল করা হয়। পাশাপাশি সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করা হয়।
২০২৫ সালের ৮ জুলাই হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি এবং পৃথকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও মোফাজ্জল হোসেন পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে লিভ টু আপিল করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি প্রদান করেন।
শুনানিতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া অংশ নেন। এছাড়া মিয়া গোলাম পরওয়ার ও মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
শুনানি শেষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা কার্যত সংবিধান পুনর্লিখনের শামিল। তিনি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, সংবিধানের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সংসদের এখতিয়ারভুক্ত। কোনো সংশোধনী বহাল রাখা বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আদালতের পরিবর্তে সংসদের নেওয়া উচিত। এছাড়া প্রস্তাবনার পরিবর্তনের বিষয়েও আদালতের পরিবর্তে সংসদকে জুলাই চার্টারের আলোকে বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।