দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন। আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে একটি উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ের পত্র-পত্রিকা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের নেওয়া ১৭ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনার নিয়োগ, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার এবং সরকারি-বেসরকারি লাভজনক কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করা। এছাড়া পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন ও বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন, ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট পোর্টাল চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস, লভ্যাংশ আয়ের দ্বৈত কর বাতিল এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুঁজিবাজার ধসের পেছনে বাজার কারসাজি, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি এবং কর্পোরেট সুশাসনের অভাবকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বীমা কোম্পানিগুলোতে অর্থ লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (ইডরা) এর নতুন চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।