ফুটবল বিশ্ব শেষ ষোলোয় এক নাটকীয় লড়াইয়ের সাক্ষী হলো, যেখানে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলেই নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের এই রোমাঞ্চকর জয়।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার চমৎকার এক ক্রস থেকে হেড করে জালে বল জড়িয়ে মিশরকে এগিয়ে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম। গোল হজমের পরপরই অবশ্য সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। এটি ছিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন মহাতারকার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর ১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায় এবং পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে আলভারেজের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে লিওনেল স্কালোনির দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক খেললেও মিশরের রক্ষণভাগে ৯ জন খেলোয়াড় জমাট বেঁধে থাকায় সুবিধা করতে পারছিল না। মেসি কিছুটা জায়গা তৈরি করে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়ালেও ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ডি পলের নিচু শটটি মোস্তফা সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন। এরপর পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান জিকো। এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারতো, কিন্তু আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
৫৮ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় মোহামেদ সালাহর দল। একটি বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাক থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান জিকো, যা মিশরের ব্যবধান দ্বিগুণ করে। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পেরিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে কোনো কামব্যাকের আভাস দেখা যাচ্ছিল না।
তবে এরপরই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির একটি ক্রসে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান। এর মাত্র চার মিনিট পর, ৮৪ মিনিটে মেসি নিজেই সমতা ফেরান। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচের অংশে লেগে বলটি জোরালো শটে জালে জড়ায়। এটি ছিল এই বিশ্বকাপে মেসির অষ্টম গোল।
চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করার পর জয়ের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। অবশেষে ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে চমৎকার হেডে বলটিকে কোনাকুনি জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এই নাটকীয় জয়ে মিশরকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা করে নিলো আর্জেন্টিনা।