চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে হত্যার দায়ে বাবু শেখ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মাথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এই রায় প্রদান করা হলো।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সকালে পাশের বাসায় ভাড়া থাকা বাবু শেখ চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, পাহাড়ে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। ইরা বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে বাবু শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পাহাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার দিন দুপুরে পাহাড়ে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। আহত অবস্থায় ইরা জঙ্গল পেরিয়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ সে মৃত্যুবরণ করে।
ঘটনার দিনই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং ৩ মার্চ দুপুরে কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবু শেখ ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরেই ভাড়া থাকতেন। চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ইরা মনির বাবার সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
তদন্ত শেষে গত ১১ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২১ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ৩০ জুন আসামির সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।