টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট বিভাগের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ছয়টি নদীর অন্তত নয়টি পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ায় সীমান্ত এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামসহ উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, শ্রীপুর, মোকাবিল, কোণাগাঁও ও বেড়িগাঁওসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ফসলি জমি ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং পুকুর ও ফিশারির মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোড়ামারা, বন্দেরগাঁও, ভানুবিল, উত্তরভাগ ও জালালপুরসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ গবাদিপশুসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিতে একটি মাধ্যমিক ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাউবোর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, হাওরগুলো প্রায় পূর্ণ থাকায় নতুন পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশিত হচ্ছে, যা নদীতে চাপ বাড়াচ্ছে। এদিকে সুনামগঞ্জেও টানা বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা জনজীবনে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, উজান থেকে আসা ঢলে নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামে টিলা ধসে ময়না মিয়া নামের এক ব্যক্তির বসতঘরের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে, তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলার বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানিয়েছেন, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কবার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।