ঢাকাকে একটি বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, শিল্প-কারখানার কারণে যেভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটছে, তার দায়ভার আমাদের সবার ওপরই বর্তায়। পরিবেশের ইকোসিস্টেমের সুরক্ষা ও বিকাশের সাথে মানবসমাজের অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে। তিনি বৃক্ষমেলাকে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না, বরং নিয়মিত চর্চায় রূপ দিতে হবে। এসময় তিনি লন্ডনের উদাহরণ টেনে বলেন, সন্তানের জন্মের পর তার নামে একটি গাছ লাগানো যেতে পারে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে। এছাড়া গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ প্রবর্তন, ছাদ বাগান, নগর বনায়ন ও ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল পদ্ধতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন।
গাছ নির্বাচনের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ ক্ষতিকর গাছ রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোন মাটিতে কোন গাছ উপযোগী তা জেনে দেশীয় ও ঔষধি গাছ রোপণে মনোযোগী হতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সবকিছু কেবল আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এর জন্য জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন। ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্তরা হলেন আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী, মো. মনির হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুস সালাম। প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।