বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরি ও মাদক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আগৈলঝাড়া থানায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজ ফকিরকে চুরির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, থানায় হাজতে থাকাকালীন রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রাত ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকিরের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে মারধর করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং হাজতে থাকাকালে সে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং থানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭)সহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।